এক ঝলক
ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেও নাগরিক পরিষেবার সুবিধা পাওয়া যাবে দলীয় নেতাদের তোলাবাজি দাদাগিরি নিয়ে ক্ষুব্ধ জিতেন্দ্র বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা ইডির মুর্শিদাবাদে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, মৃত ৫ ঘটনাস্থলে অধীর, রেলমন্ত্রীকে ফোন

ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেও নাগরিক পরিষেবার সুবিধা পাওয়া যাবে

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতে ভোটার হওয়ার প্রাথমিক তিন শর্তের অন্যতম হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এ দেশের নাগরিক হতে হবে। কিন্তু নাগরিকত্বের ইস্যুতে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলেই তাকে নাগরিক পরিষেবা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ধরে নেওয়া যাবে না যে তিনি ভারতীয় নাগরিক নন, এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
Ganamadhyam
18 July, 2026


প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই কি ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাতে হবে বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে আমজনতার মুখে মুখে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এক্ষেত্রে কমিশনের এক্তিয়ারের রূপরেখাও বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার এই ইস্যুতেই একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। 
শীর্ষ আদালত সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলা করেন জনৈক প্রসেনজিৎ বোস। সেই মামলার শুনানিতে বিহার এসআইআর মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, আমাদের রায় অত্যন্ত স্পষ্ট। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯, ১০, ১১ ও ১২-এর অধীনে অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে (নাগরিকত্ব) জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোনও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নেই।
এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্ত মতো দেশের একাধিক রাজ্যে এই মুহূর্তে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। শীর্ষ আদালতে একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মামলায় অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী  জানান, এই ইস্যুতে বিহারে এসআইআর এর পরও শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখনই সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়। বিচারপতি বাগচী বলেন নির্বাচন কমিশন কারো নাম নাগরিকত্বের কারণে তালিকা থেকে বাদ দিলে তাদের কাজ হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া। এই ব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এসআইআর এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের কাছে একাধিক মামলা বিচারাধীন। পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে মামলাকারী প্রশান্ত বোসের আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণন আদালতকে আবেদন বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। 
এদিন মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি ট্রাইব্যুনালের শ্লথ গতিতে কাজ এবং একের পর এক বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, মোট ৩৪ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। ৩৩.৫ লক্ষ আবেদনের এখনও শুনানি বাকি আছে। তারপরই তিনি বলেন, ‘যাদের আবেদন বিচারাধীন তারা সরকারি প্রকল্প, রেশন ব্যবস্থা, জাতিগত শংসাপত্র- সহ সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
দুটি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আদালতে  এও উল্লেখ করেন যে, বিপুল সংখ্যক আবেদন অমীমাংসিত থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের ‘পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম’ ও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুবিধা প্রদান এবং এমনকি জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) ইস্যু করা থেকেও বঞ্চিত করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর পাশাপাশি শঙ্করনারায়ণন এদিন এও বলেন, আগের শুনানির সময় একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও নাগরিক অধিকার বাতিলের বিষয়টি আঁচ করা যায়নি। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় না তারা বিষয়টি প্রকাশ করেছিল কিংবা আমরা আদৌ এমনটা আশঙ্কা করেছিলাম।' তিনি আদালতের কাছে আর্জি জানান এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করতে। এ বিষয়ে স্টার্ন্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর ঠিক করে দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।পাসপোর্টের মতো ডকুমেন্টকে নাগরিকত্বের পরিচায়ক হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন।এই আর্জির প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, নাগরিকত্বের বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাউকে সুবিধা বঞ্চিত করা যাবে না। ধরে নেওয়া যাবে না যে তিনি ভারতের নাগরিক নন।
ই-পেপার