এক ঝলক
তৃনমূলের তালিকায় ১২ লক্ষ অযোগ্য, আবাসে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হল মিলন মেলায় বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগী শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তেহলকার তরুণ তেজপাল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া উত্তরপাড়া হাসপাতালের হাল ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

পরিবেশ সচেতনতা ও পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু ভগবতপুর কুমির প্রকল্প

হাসান লস্কর: সুন্দরবনের গহীন ম্যানগ্রোভ আর রূপসী নদীর বুক চিরে গড়ে ওঠা ভগবতপুর কুমির প্রকল্প আজ দেশ-বিদেশের প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত এবং সপ্তমুখী নদীর মোহনায় অবস্থিত এই প্রজনন কেন্দ্রটিতে প্রতি বছরই রেকর্ড সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটছে।
Ganamadhyam
07 August, 2026
লবণাক্ত জলের কুমির সংরক্ষণ ও গবেষণার পথিকৃৎ ১৯৭৬ সালে বিলুপ্তপ্রায় লবণাক্ত জলের কুমির সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ভগবতপুর কুমির প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমকে টিকিয়ে রাখতে এই প্রজনন কেন্দ্রের অবদান অনস্বীকার্য। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া থেকে শুরু করে সেগুলিকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যায় লালন-পালন করা এবং পরবর্তীকালে বনের স্বাভাবিক পরিবেশে মুক্ত করার এই পুরো প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। বন দপ্তরের নিরলস প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী ভূমিকা।ভগবতপুর কুমির প্রকল্পের এই সাফল্য ও আন্তর্জাতিক মহলে জনপ্রিয়তা অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের নিরলস পরিশ্রম ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বন দপ্তরের আধিকারিক ও স্থানীয় কর্মচারীরা দিনরাত এক করে এই বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের রক্ষা ও প্রজননে অবিরাম কাজ করে চলেছেন।বন দপ্তরের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চার দেখভাল করার কারণে এখানে কুমিরের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সুবিধার্থে বন দপ্তর পর্যটন।পরিকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সুনির্দিষ্ট ওয়াচ টাওয়ার, নিরাপদ ফুটপাথ এবং তথ্যকেন্দ্র তৈরি করার ফলে পর্যটকরা খুব কাছ থেকে অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে কুমির ও সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রত্যক্ষ করতে পারছেন।কেবল প্রদর্শনী নয়, বরং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বন দপ্তর নিয়মিত গাইড ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।ভগবতপুর কুমির প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের এই বিকাশ কেবল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং স্থানীয় লঞ্চ ও বোট চালক, গাইড এবং স্থানীয় হস্তশিল্পীদের জন্য এক নতুন জীবিকার পথ খুলে দিয়েছে। বন দপ্তরের এই পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন নীতি  সুন্দরবনের জঙ্গল ও মানুষ—উভয়ের সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও সুন্দর করে তুলেছে।
প্রকৃতির কোলে বন্যপ্রাণী বাঁচানোর এই সাফল্যগাঁথা আজ সারা বিশ্বের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বন দপ্তরের সততা, নিষ্ঠা ও দূরদর্শী প্রচেষ্টায় ভগবতপুর কুমির প্রকল্প আগামী দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজমের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ই-পেপার