এক ঝলক

রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী কোয়েল

নিজস্ব সংবাদদাতা: জল্পনা চলছিলই। রবিবার দিল্লির ঘোষণা তাতে চূড়ান্ত সিলমোহর দিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে (নথিপত্রে রুক্মিণী মল্লিক) রাজ্যসভার উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিল বিজেপি। রবিবার ৪ অক্টোবর দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার ফাঁকা আসনটিতে কোয়েলের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী,আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন এই আসনে ভোটগ্রহণ হবে। চলতি বছরের মার্চে রাজ্যসভা নির্বাচনে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন কোয়েল, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার ও মেনকা গুরুস্বামী। এপ্রিলের ৬ তারিখ সাংসদ পদে শপথ নিলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের ভরাডুবির পর মেয়াদের মাত্র তিন মাসের মাথায় গত ১৬ জুলাই আচমকাই পদত্যাগ করেন টলি নায়িকা। দিল্লির উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের হাতে নিজের পদত্যাগ পত্র তুলে দেওয়ার পর থেকেই রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয় চরম গুঞ্জন।
Ganamadhyam
05 October, 2026
 ইস্তফা দেওয়ার পরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে কোয়েলের ঘনঘন উপস্থিতি সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢালে। সেই সময় তৃণমূলের একাধিক 'বিদ্রোহী' সাংসদও ভূপেন্দ্রের বাসভবনে বৈঠক করেছিলেন, যারা পরবর্তীতে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) গঠন করে এনডিএ শরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সংসদীয় পদ ছেড়ে বিজেপির টিকিটে পুনরায় রাজ্যসভায় যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। কোয়েলের আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূলের সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে পদ্মশিবিরে যোগ দেন এবং পর মুহূর্তেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিট পান।সেদিক থেকে দেখতে গেলে কোয়েল রয়েছেন চতুর্থে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে অন্য এক সমীকরণ। সুখেন্দুশেখর বা সুস্মিতারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী ঘোষিত হলেও, কোয়েল মল্লিক এখনও পর্যন্ত কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেননি। পদ্মশিবিরের পতাকা হাতে নেওয়ার আগেই সরকারি প্রার্থীতালিকায় তার নাম প্রকাশ পাওয়া নিয়ে সংসদীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর জল্পনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিধানসভার বর্তমান দলীয় শক্তির সমীকরণ অনুযায়ী এই শূন্য আসনটিতে বিজেপির জয় নিশ্চিত। ফলে পদ্মপ্রতীকে সংসদের উচ্চকক্ষে কোয়েলের প্রত্যাবর্তন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। যদিও প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশের পর কোয়েলের তরফ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
ই-পেপার