প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ঘাঘরায় নিখোঁজ পর্যটক প্রীতি দত্তের দেহ উদ্ধার
স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে শনিবার ঘাঘরা জলপ্রপাতের জলে তলিয়ে যাওয়া বারুইপুরের পর্যটক প্রীতি দত্তের (৩৪) দেহ উদ্ধার হল রবিবার সন্ধ্যায়। দিনভর তল্লাশির পর জলপ্রপাতের একটি অংশে জল আটকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখনই জলের নীচে প্রথমে তাঁর পা দেখা যায়। পরে সেখান থেকে দেহটি উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। দেহ উদ্ধারের জন্য ডুবুরি নামাতে হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ওই মহিলা পর্যটকের দেহ উদ্ধার হল।
শনিবার দুপুরে সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কনকে নিয়ে ঘাঘরা জলপ্রপাতে গিয়েছিলেন প্রীতি। আচমকা পা পিছলে জলে পড়ে যায় প্রিয়ঙ্কন। ছেলেকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন প্রীতি। প্রবল স্রোতের মধ্যে তিনিও তলিয়ে যান। পরে প্রিয়ঙ্কনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রীতির খোঁজ মেলেনি।
শনিবার থেকেই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রবিবার সকালে হুগলির আরামবাগ থেকে এনডিআরএফের ৩০ জনের একটি দল ঘাঘরায় পৌঁছয়। সঙ্গে ছিলেন সিভিল ডিফেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরাও। কিন্তু জলপ্রপাতের ওই অংশে প্রবল খরস্রোতের কারণে ডুবুরিদের জলে নামানো সম্ভব হয়নি।
জলের স্রোতের গতি কমানোর জন্য রবিবার সকাল থেকেই বালির বস্তা ও বোল্ডার ফেলে জল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে সেই চেষ্টা বিশেষ কাজে আসেনি। পরে জল আটকে অন্য দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাতেই জলের নীচে প্রীতির পা নজরে আসে। এরপর উদ্ধারকারীরা দেহটি উদ্ধার করেন।ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, টানা তল্লাশি অভিযানের পর সন্ধ্যার পর দেহ উদ্ধার হয়েছে।