মহালয়ার আগে গঙ্গাসাগরে চরম শঙ্কা, বিধ্বস্ত ১ থেকে ৬ নম্বর ঘাট
হাসান লস্কর (গঙ্গাসাগর): অর্ণব ও পূর্ণিমার কোটালের জেরে ভাঙাচোরা স্নানঘাট, ছড়িয়ে কংক্রিটের টুকরো ও বিদ্যুতের খুঁটি, লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। হাতে গোনা আর কয়েকটি দিন। তারপরই মহালয়ার পুণ্যতিথি। ঐতিহ্য মেনে ওই দিন গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান এবং কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই ভক্তদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু মহালয়ার আগে গঙ্গাসাগরের ১ থেকে ৬ নম্বর স্নানঘাটের বেহাল দশা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব এবং পূর্ণিমার কোটালের যৌথ প্রভাবে গঙ্গাসাগরের ওই ঘাটগুলির বিস্তীর্ণ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ভেঙে পড়েছে ঘাটের মূল কাঠামো, কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব ও সালবল্লার খুঁটি। জোয়ারের সময় সেগুলি জলের তলায় চলে যাওয়ায় পুণ্যার্থীদের পায়ে চোট লাগার আশঙ্কা রয়েছে।ঘাট চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের ভারী খুঁটি পড়ে থাকার পাশাপাশি উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ। কোথাও আবার ঢালাই রাস্তা ভেঙে বড় বড় কংক্রিটের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মহালয়ার দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় স্নান করাতে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রতি বছরই দুর্যোগের সময় গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন ঘাট কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।পরে মেলা বা গুরুত্বপূর্ণ পুণ্যস্নানের আগে সেগুলি মেরামত করা হয়। তবে এবার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে মহালয়ার আগে ঘাটগুলি কতটা নিরাপদ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।ঘাটের বেহাল দশা নিয়ে চিন্তায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। মহালয়ার পুণ্যস্নানকে ঘিরে ব্যবসার আশায় থাকা দোকানদারদের আশঙ্কা, ঘাট ও যাতায়াতের রাস্তা দ্রুত সংস্কার না হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসাতেও। এই পরিস্থিতিতে তর্পণ করতে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির মণ্ডল-৪ সভাপতি পিনাকী মণ্ডল। তার আশ্বাস, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।এখন মহালয়ার আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘাটগুলি কতটা নিরাপদ করা যায়, সেটাই দেখার।