এক ঝলক

ঝাড়গ্রামে পুকুরে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু দুই বন্ধুর

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): রবিবার ছুটির দিনে তিন বন্ধু মিলে পুকুরে স্নান করতে নেমেছিলেন। আচমকা পা পিছলে গভীর জলে তলিয়ে যান দু’জন। তাদের বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন তৃতীয় বন্ধু। আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুই বন্ধুকে উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। কোনও রকমে পাড়ে উঠে স্থানীয়দের সাহায্য চান। প্রায় এক ঘণ্টা পরে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় দুই তরুণের নিথর দেহ। ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের জারালাটা এলাকার ঘটনা। মৃত দুই তরুণের নাম কুমারেশ দাস (১৯) ও সোমরাজ দে (১৯)। কুমারেশের বাড়ি শহরের রঘুনাথপুরে। সোমরাজ থাকতেন জামদা এলাকায়। তাঁদের বন্ধু কৃষ্ণেন্দু সিনহারও বয়স ১৯ বছর। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের রাধানগরে। তিন জনই ঝাড়গ্রাম শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সিমেস্টারের পড়ুয়া। ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারণে স্থানীয়দের কাছে তারা ‘থ্রি মাসকেটিয়ার্স’ নামে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছুটির দিনে মাঝেমধ্যেই তিন বন্ধু বাইকে ঘুরতে বেরোতেন। রবিবারও তাঁরা ঝাড়গ্রাম শহরের অদূরে জারালাটা এলাকার একটি পুকুরে স্নান করতে যান। এর আগেও ওই পুকুরে এসেছিলেন তারা। তিন বন্ধুর মধ্যে একমাত্র কৃষ্ণেন্দুই সাঁতার জানতেন। পুকুরে নেমে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর আচমকাই পা পিছলে যায় কুমারেশ ও সোমরাজের। গভীর জলে তলিয়ে যেতে থাকেন দু’জন। তাদের বাঁচাতে জলে নামেন কৃষ্ণেন্দু। কিন্তু দু’জনকে টেনে তুলতে পারেননি। পরে কোনও রকমে পাড়ে উঠে চিৎকার করে স্থানীয়দের সাহায্য চান তিনি। পুলিশকেও খবর দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে নেমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় কুমারেশ ও সোমরাজের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহ দু’টি ঝাড়গ্রাম হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কৃষ্ণেন্দু বলেন, আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে পুকুরে স্নান করতে এসেছিলাম। পুকুরে নামার সময় আমাদের পা ফসকে জলের ভিতরে চলে যায়। আমি সাঁতার জানি। ওদের ওঠানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। পরে উঠে এসে চিৎকার করলে কিছু মানুষ এখানে এসে ওদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে আমি নিজেই পুলিশকে ফোন করি। সোমরাজের বাবা রাজেশ দে বলেন, আমি রোজ সকালে ব্যবসার জন্য বেরিয়ে যাই। এ দিনও গিয়েছিলাম। দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় ওর বন্ধুরা এসে খবর দেয়। খবর পেয়ে এখানে এসে দেখি, ছেলে জলে তলিয়ে গিয়েছে।
Ganamadhyam
05 October, 2026
ই-পেপার