এক ঝলক

শিমুল গাছের গায়ে শিবরূপ দর্শনে ধূপগুড়িতে ভক্তের ভিড়

​উৎপল রায় (ধূপগুড়ি): প্রকৃতি আর অন্ধবিশ্বাসের এক অপূর্ব মিলনে হঠাৎই সরগরম হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের শান্ত জনপদ। একটি শিমুল গাছের গায়ে প্রাকৃতিকভাবে ফুটে উঠেছে দেবাদিদেব মহাদেবের অবয়ব—এই দাবি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ধূপগুড়ির গধেয়ারকুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চরচরা বাড়ি এলাকার ১৫/১০২ নম্বর বুথে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই দেবদর্শনের আশায় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। ​স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে এলাকার একটি পুরনো শিমুল গাছের কাণ্ডে এক বিশেষ আকৃতি প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। দূর থেকে সেই অবয়বটি হুবহু জটাজুটধারী শিব ঠাকুরের রূপ বলে মনে হতেই জল্পনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ‘স্বয়ং মহাদেবের আবির্ভাব’-এর খবর। ​খবরটি চাউর হতেই থমকে যায় এলাকার দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। সকাল থেকেই গাছটির নিচে দেখা যায় হাজারও কৌতূহলী ও শ্রদ্ধালু মানুষের থিকথিকে ভিড়। কেউ হাতে ধূপ-দ্বীপ ও ফুল নিয়ে পুজো দিতে শুরু করেন, আবার কেউ মোবাইল বের করে বন্দি করতে থাকেন ‘অলৌকিক’ সেই ছবি। ভক্তি আর বিশ্বাসের টানে ধূপ-দ্বীপের ধোঁয়া এবং জয়ধ্বনি-প্রণাম মন্ত্রে গমগম করে ওঠে পুরো চরচরা বাড়ি এলাকা। ​তবে ভক্তদের এই ভাবাবেগের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যুক্তি প্রকাশ করেছেন এলাকারই সচেতন ও শিক্ষিত যুবকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এতে অলৌকিক বা দৈব কোনো রহস্য নেই। বয়সের কারণে কিংবা প্রাকৃতিক কোনো প্রক্রিয়ায় গাছের ছাল উঠে যাওয়ায় বা শুকিয়ে যাওয়ায় এক বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে, যা দেখতে মানুষের অবয়বের মতো লাগছে। এটি নেহাতই প্রকৃতির এক কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়। ​তর্ক-বিতর্ক ও বিজ্ঞানের যুক্তির পারদ চড়লেও সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে তা এতটুকুও ভাঁটা ফেলতে পারেনি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে বিজ্ঞান মন্ত্রের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মানুষের হ্যালুসিনেশন এর কারণে এরকম ধারণার সৃষ্টি হতে পারে।
Ganamadhyam
05 October, 2026
ই-পেপার