‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। রাম মন্দিরের চম্পত রাইয়ের সঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রাও। সূত্রের খবর, ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর দিকে কারচুপির অভিযোগ উঠতেই, নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলেন চম্পত রাইয়ের। যদিও এখনও পর্যন্ত চম্পত রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবু তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের বাইরে রাখার যুক্তিতে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শুক্রবার আট অভিযুক্তের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। সনাতন ধর্মের মূল্যবোধে আঘাত হানার বিরুদ্ধে জিরো টলার্যান্স নীতি অনুসরণে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রসঙ্গত, ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এ জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানে তৈরি হয় সিট। তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল মঙ্গলবার তদন্ত সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সিটের সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছেন, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু,লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র। লবকুশ এবং অনুকল্প মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও নথিভুক্তির কাজে যুক্ত ছিলেন। অন্য দিকে, রামশঙ্কর আগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পতের গাড়িচালক ছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে মন্দির নির্মাণ ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত করা হয় তাকে।এর ছাড়া অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব নামে তিন অভিযুক্তও রয়েছেন ধৃতদের তালিকায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি হওয়া সম্পত্তি গোপন রাখা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে যৌথ ভাবে অপরাধ-সহ ভারতীয় ন্যায়সংহিতা এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে ‘দোষী’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে এদের অনেকেরই সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। রাম মন্দিরে জমা পড়া অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও হিসাব রক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে যে অনুদান গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এবং কর্মীর বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও আর্থিক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গণনার সময়ে বন্ধ রাখা হতো সিসিটিভি। ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের মধ্যেও অনেকে রয়েছেন সন্দেহভাজনের তালিকায় বলে খবর। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনের পর থেকেই রাম মন্দিরে বিপুল পরিমাণ অনুদান জমা হতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের মোট আয় ছিল প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা এসেছে অনুদান থেকে এবং ১৭৩ কোটি টাকা সুদ বাবদ আয়। ট্রাস্ট জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী মন্দিরে আসেন। সপ্তাহান্তে ও উৎসবের সময়ে এই সংখ্যা দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সেই অনুদানের হিসাব নিয়েই বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ সামনে আসে। এর পরেই উত্তরপ্রদেশ সরকার সিট গঠন করে।