তারপর থেকে ক্রমশ হারিয়ে গিয়েছে তাদের দাপুটে ফুটবল। ফুটবল থেকে ক্রমশই যেন অন্তরালে হাঙ্গেরি।
হাঙ্গেরির বিশ্বকাপ ফুটবল পরিসংখ্যানে তারা দুইবার ফাইনালে পৌঁছায়। দুই দুই ফাইনালে পৌঁছালেও একবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে আনতে পারেনি।
১৯৫৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে হাঙ্গেরি ছিল অপ্রতিরোধ্য। সে সময় তাদের ফুটবল দুর্বার গতিতে ছুটছে। কারো সাধ্য নেই তাদের সেই গতি আটকানোর। পুসকাস সমৃদ্ধ হাঙ্গেরিকে আটকানো এক কথায় অসম্ভব।
১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসেছিল। হাঙ্গেরি তাদের সেরা শক্তিশালী দল নিয়ে সেবার সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবল অভিযান করতে। নেতৃত্বে ছিলেন পুসকাস যিনি ‘ম্যাজিক মাজার্স’ নামে পরিচিত। গ্রুপ লীগ থেকে কোয়াটার ফাইনাল, সেমিফাইনালে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছিল তারা। ফাইনালে গিয়েও শেষ হাসি তারা হাসতে পারেনি। পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
গ্রুপ পর্বে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া পরবর্তীতে পশ্চিম জার্মানিকে গোলের মালা পরিয়ে ছিল তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ৯-০ গোলের ব্যবধানে জয়। পরের ম্যাচে ৮-৩ গোলের ব্যবধানে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে। হাঙ্গেরির অশ্বমেধ ঘোড়া ছুটছে। কোয়ার্টার ফাইনালেও নিজেদের জয়ের ধারা বজায় রাখে, শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলের ব্যবধানে সহজেই জয় ছিনিয়ে নেয় হাঙ্গেরি। সেমিফাইনালে মুখোমুখি উরুগুয়ের। উরুগুয়ে কোনরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। হাঙ্গেরির সহজ জয় ৪-২ গোলের ব্যবধানে। ফাইনালে মুখোমুখি পশ্চিম জার্মানির। ফাইনাল খেলতে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী ছিল হাঙ্গেরি। একে দুর্দান্ত ফর্ম, অপরদিকে গ্রুপ লিগের পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে সহজেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অ্যাডভান্টেজ তাদের দিকেই ছিল।
ফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই তাদের খেলা দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ১৯৫৪ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে হাঙ্গেরি।
১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি দলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জাতীয় দল হিসেবে ধরা হয়। ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামার আগে তারা গোটা টুর্নামেন্টে একটা ম্যাচেও পরাজিত হয়নি। ফাইনালে প্রথমে তারাই ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়েছিল। কিন্তু তারপরেই হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে। পশ্চিম জার্মানি ধীরে ধীরে খেলায় ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বে মিরাকেল অফ বার্ন নামে পরিচিত।
শিরোপা জিততে না পারলেও ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি দল তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল, অসাধারণ দক্ষতা এবং রেকর্ডসংখ্যক গোলের জন্য আজও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।