এক ঝলক
ফুটবলের বিশ্ব সেরা স্পেন সর্বদল বৈঠকে এনসিপিআই'কে স্বাগত জানাতেই ক্ষুব্ধ বিরোধীদের একাংশ ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে দেশের প্রথম শব্দ সংগ্রহশালা শিল্পা ও রাজের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্টে নিষেধাজ্ঞা আদালতের মঞ্চে অনন্যার উন্মুক্ত কোমরে স্পর্শ পোশাকশিল্পী গৌরবের

সর্বদল বৈঠকে এনসিপিআই'কে স্বাগত জানাতেই ক্ষুব্ধ বিরোধীদের একাংশ

নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। ঠিক তার আগে রবিবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এনসিপিআই দলের সদস্যদের।
Ganamadhyam
20 July, 2026

এনসিপিআইয়ের হয়ে সর্বদল বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাদের স্বাগত জানাতেই ক্ষুব্ধ হয় বিরোধীদের একাংশ। বৈঠক শুরু হতেই ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান  তৃণমূলের মহুয়া মৈত্ররা। তাদের সঙ্গে  বেরিয়ে যান কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-সহ বিভিন্ন দলের সাংসদরা। যদিও কিছুক্ষণ পরে তারা ফের বৈঠকে যোগ দেন। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআইতে যোগদানের বিষয়টি এখনও লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, আমাদের আপত্তি হলো, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নামই নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-সহ গোটা বিরোধী জোট সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। কারণ তথাকথিত এনসিপিআই একটি অস্বীকৃত দল। সংসদের টেবিল অফিসের তালিকায় এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, কিন্তু এখনও স্পিকার তা অনুমোদন করেননি।  সুদীপ এখন এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা। মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবারের সর্বদল বৈঠকে যোগ দেন উভয়েই। সেখান থেকে বেরিয়ে সুদীপ বক্তব্য, আমরা বলেছি, ছোট দলকে প্রথম সারিতে আসন দেবেন না। ২৮ জনের থেকে ২০ জন বেরিয়ে গেলে দল তো আট জনের হয়ে যায়। যে দলের যেখানে জায়গা, তাদের সেখানেই জায়গা দিন। এনসিপিআই নেতা ‘ছোট দল’ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও পক্ষের নামোল্লেখ করেননি। তবে তার নিশানায় যে কালীঘাট-তৃণমূলই ছিল, তা স্পষ্ট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সভাপতিত্বে এই সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ মাস খানেক আগে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই বা ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায়। তারা এনডিএ-কে সমর্থন করার কথা জানান।  এমনকি স্পিকার ওম বিড়লর কাছে  আলাদা দলের স্বীকৃতির আবেদন জানান। বাদল অধিবেশনেই যাতে সেই স্বীকৃতি মেলে, সেই আর্জিই জানানো হয়েছে।শনিবার এনসিপিআই-কে চিঠি পাঠিয়ে সর্বদল বৈঠকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। কিন্তু স্পিকার এখনও আলাদা দলের স্বীকৃতি নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। শনিবার রাতে সংসদের তরফে সচিব অধিবেশনে যোগদানকারী বিভিন্ন দলের তালিকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের কথা উল্লেখ করলেও আলাদাভাবে ২০ জন সাংসদ আলাদা আসনে বসবেন, তা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন। রবিবার সকাল ১১টা থেকে সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সর্বদল বৈঠকে সুদীপ, কাকলিরা হাজির হতেই তাদের স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘাওয়াল। এতেই ক্ষুব্ধ হন মহুয়া-সৌগতরা। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, লোকসভার স্পিকারের কাছে স্বীকৃতি চেয়েছে এনসিপিআই। তাদের কী ভাবে উপেক্ষা করব? সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোই সরকারের দায়িত্ব।
ই-পেপার