এক ঝলক
হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার শিলিগুড়িকে আধুনিক স্মার্ট শহর‘হিমালয়ান সিট' রূপায়নে অগ্নিমিত্র পাল দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে ঃ দিলীপ অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু প্রকল্পের বোর্ড উঠল, রাস্তা হলো না, হতাশ‌ তেওটের গ্রামবাসী

ইরানের ওপর হামলা স্থগিত, ট্রাম্পের কন্ঠে হুংকারও নেই

ওয়াশিংটন: ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ায় তার মিত্র দেশগুলির ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Ganamadhyam
03 August, 2026

তার দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে বিরোধে জড়িত দেশগুলি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি করতে আগ্রহী। চুক্তিতে আমেরিকার শর্তও মানবে বলে জানিয়েছে তারা। সেই কারণেই ইরানে হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।  প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু হুমকির অবসানের বিষয়টি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে এমন সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি। কিন্তু ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ আমাদের হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছে। কারণ একটি চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে, বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে আমি হামলা বাতিল করতে রাজি হয়েছি।’ তার কথায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত আমেরিকা। তবে ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি যে কোনও ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে আমাদের অনুরোধ করেছে। তার পরেই চুক্তির কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুদ্ধ বন্ধ করতে যে চুক্তি হবে, তাতে মূলত দু’টি শর্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এক, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা আর দুই, ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান। ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে অনুরোধে সাড়া দিয়েছি। তিনি মনে করেন, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার ক্ষমতা আমেরিকার আছে। তবে ট্রাম্প চান, ইরান টিকে থাকুক। আর সেই কারণে আবার চুক্তি করার শর্তে আসন্ন হামলার পথ থেকে সরে আসছে আমেরিকা। শুধু আমেরিকা নয়, ইজ়রায়েলও চুক্তি করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার উপদেশ, দ্রুত কাজ  শুরু করো। অবিলম্বে কাজটা শেষ করতে হবে। যদিও ট্রাম্পের নয়া দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অতীতেও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির চেষ্টা হয়েছিল। কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনাও হয়েছিল ইরান-আমেরিকার মধ্যে। দু’দেশই নিজের নিজের শর্ত রেখেছিল। এমনকি দু’দেশের মধ্যে সমঝোতাপত্রও (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তার মধ্যেই আবার নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় পশ্চিম এশিয়ায়। জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। আমেরিকা দাবি করেছিল, ইরান সেনাবাহিনীর ইশারায় ইরাক থেকে হামলা চালানো হয়েছে। তার পর থেকে আমেরিকাও প্রত্যাঘাত শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে শুক্রবার  মার্কিন ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উপরে আর ‘ভরসা’ রাখতে পারছেন না তিনি। তাই ইরানের উপর আরও জোরালো হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আধিকারিক সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছিল, এই সপ্তাহান্তেই (শনি বা রবিবার) ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগন (মার্কিন যুদ্ধ দফতর)- কে তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানে যে ফের হামলা হতে পারে, সেই আভাস মিলেছিল ট্রাম্পের বক্তব্যেও। মেরিল্যান্ডে আয়োজিত ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা ওদের উপর জোরালো আঘাত হানব। এমন হাল করে দেব যাতে ওরা বলে, আর সহ্য করতে পারছি না। তবে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ই-পেপার